রাজ্য ভলিবল সংস্থা’য় টালমাটাল পরিস্থিতি, পল্টু রায় চৌধুরী’কে ঘিরে জনরোষ সংস্থা’র অন্দরেই

ক্রীড়াপ্রতিনিধি, কলকাতা, ১২ নভেম্বর: আর মাত্র একদিনের অপেক্ষা। আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলতে নামবে ভারতীয় দল। সেই কারণে জোরকদমে অনুশীলনে ব্যস্ত দুই শিবির। ইতিমধ্যে দু’দিন অনুশীলন করেছেন টেম্বা বাভুমা-শুভমন গিল’রা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য ভলিবল সংস্থায় ঘটে গেল এক অনভিপ্রেত ঘটনা।
ঘটনার কেন্দ্রে পৌঁছনোর আগে ফিরে যাওয়া যাক ৯-এর দশকে। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভলিবল সংস্থার সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসেন রথিন রায় চৌধুরী ওরফে পল্টু। তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বভার ছিল বামপন্থীদের হাতে। সেই সময় আর্থিকভাবে চাঙ্গা ছিল না রাজ্য ভলিবল ফেডারেশন। টাকা জোগাড় করা থেকে শুরু করে টুর্নামেন্ট আয়োজন, সবটাই কার্যত একা হাতে সামলাতেন পল্টু বাবু। কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মানসিকতা আমূল পরিবর্তন হয়। ধীরে ধীরে রাজ্য ভলিবল সংস্থায় চালু হয় একনায়কতন্ত্র। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নির্বাচন না করে সচিবের সিংহাসনে বসে এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য এবং প্রাক্তন খেলোয়াড়দের উপর ছড়ি ঘোড়াতে থাকেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ করছেন মহামায়া চৌধুরী, সুরোজিত মুখোপাধ্যায়, রঞ্জন ঘোষ, প্রসেনজিৎ দত্ত, বাসন্তি দাস প্রমুখ ব্যক্তিত্বরা।
তাদের আরও অভিযোগ, সংস্থার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজেই একটি সংবিধান তৈরি করেন পল্টু বাবু। যার অধিকাংশ নিয়ম-নীতি ছিল তাঁর পক্ষে। ফলত, তাঁর একনায়কতন্ত্র শাসন বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় একটাই রাস্তা খোলা ছিল। নতুন ভাবে নির্বাচন হলে সমস্ত রকম দুর্নীতি-কূটনীতি বন্ধ করে দেওয়া যেত। কিন্তু বিভিন্ন রকম কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনই করতে দেননি ভলিবল সংস্থার সচিব। শেষ ২০১২ সালে নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেননি। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সচিবের পদ পাকা হয়ে যায় তাঁর।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি ৪ বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা। এক যুগ কেটে গেলেও সেই নির্বাচন আর বাস্তব রূপ পায়নি। তারউপর আর্থিক তছরূপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা সর্বপরি তাঁর বিরুদ্ধে কেউ সুর তুললেন তাঁকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন রথিন রায় চৌধুরী। সূত্রের খবর, নিজের ব্যক্তিগত ভরণপোষনের জন্য সংস্থার তহবিল থেকে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা নেন তিনি। তাই এ হেন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং কোচেরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানালেন।
ভারতীয় ভলিবল দলের কোচ মহামায়া চৌধুরী’র বলেন, “বর্তমানে ভলিবল টেন্টে রাজ্য ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ চলছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রায় ১৫০ যুবককে তাঁবুতে এনে ঝামেলা করেন পল্টু দা। আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এই ভাবে আর মেনে নেওয়া সম্ভব না। এখানে প্রচুর মেয়েরা রয়েছে। তারা বাইরে থেকে খেলতে আসে। তাদের সুরক্ষার বিষয়টা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।” প্রাক্তন খেলোয়াড় গোবিন্দ ভট্টাচার্য বলেন, “সংস্থার তহবিলে একটা সময় ৫ কোটি টাকা ছিল। কিন্তু সেই টাকা কোন খাতে কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা কেউ জানে না। সম্প্রতি, পল্টু দা কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য সংস্থার তহবিল থেকে ৭২ হাজার টাকা নিয়ে শুধুমাত্র বিমানের টিকিট কেটেছেন। সামান্য দিল্লি যাওয়ার জন্য বিমানের এত ভাড়া হতে পারে তা আন্দাজ করাও কঠিন বিষয়।”
বর্তমানে ভলিবল সংস্থার সভাপতি পদে বসানো হয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম’কে। সূত্রের খবর, তিনিও খুব একটা তাঁবুতে আসেন না। তবে রথিন বাবু আশ্বাস দিয়েছেন ২০২৭ সালে নির্বাচন করবেন। কিন্তু তা মানতে নারাজ প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং কোচেরা। জানা যাচ্ছে, পল্টু বাবুর জায়গায় খুব শীঘ্রই সচিব পদে বসতে চলেছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here