
কৌশিক চক্রবর্তী
৮ ডিসেম্বর, কলকাতা
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন বললে অত্যুক্তি করা হবে না। উত্তাল শহর। কে কোথায় রেড করবে, কে ফাইল নিয়ে পালাবে, কে কার গাড়িতে ফাইল তুলবে- বিবিধ কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনীতির আঙিনায় ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে সবার অলক্ষ্যে চুপচাপ ঘটে গেল এক অদ্ভুত ঘটনা।
এ দিন সিএবি’র অম্বর রায় অনূর্ধ্ব ১৫-এর খেলা ছিল বাটা মাঠে। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গিয়েছিল দুই দল, দুই আম্পায়ার এবং স্কোরার। অথচ স্কুল কমিটি ম্যাচ দিলেও আগে থেকে জানানোই হয়নি মাঠ কর্তৃপক্ষকে। মাঠে পৌঁছে দেখা যায় পিচের পরিচর্যার জন্য মালিরা জল দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “আমাদের কাছে কোন খবর ছিল না এখানে খেলা রয়েছে।” ফলে মাঠ থেকে না খেলেই ফিরে আসতে হয় দুই দলকে।
এটাই প্রথম নয়, কিছু দিন আগে মার্লিন মাঠে প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে গিয়েছে। শুধু অনূর্ধ্ব-১৫ অম্বর রায়ের ক্ষেত্রেই নয়, ডিভিশনের খেলাতেও প্রায় একই রকম পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে এই মরসুমে একাধিকবার।
কিছুদিন আগে হাইকোর্ট মাঠে ফ্রেন্ডস অ্যাথলেটিক্স ক্লাব এবং হাইকোর্ট ক্লাবের মধ্যে খেলা আয়োজন করা সম্ভব হলেও খেলা শুরু হওয়ার আগে দেখা গিয়েছিল মূল পিচ শুকনো থাকলেও পার্শ্ববর্তী দুই পিচে জল দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে চট রোল করিয়ে খেলা শুরু করিয়েছিলেন আম্পায়াররা।
এর কয়েকদিনের মধ্যেই প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে দেশবন্ধু পার্কে’র মাঠে। দেশবন্ধু পার্কে সকাল সাড়ে ন’টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গল এবং তপন মেমোরিয়াল-এর মধ্যে। সেই ম্যাচ শুরু হয় তিন ঘণ্টা পর। মূল পিচ কভার করা থাকলেও পার্শ্ববর্তী দুই পিচে ঢাকা ছিল না। ম্যাচের আগের দিন জল দেওয়া হয় সেই দুই পিচে।
কে বা কারা ঘটাচ্ছেন এই ঘটনা? উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় তো? সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়’কে সাবোতাজ করার চেষ্টা করছে না তো সিএবি’র-ই একটা মহল? আবার সম্পূর্ণটা অযোগ্যতার কারণেও হতে পারে।
অপর দিকে, নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে ছয় মাসও হয়নি এরই মধ্যে শাসক গোষ্ঠীর মধ্যেই তৈরি হয়েছে একাধিক লবি।
সিএবি’র আনাচে কানাচে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে সচিব বাবলু কোলে, যুগ্ম সচিব মদন মোহন ঘোষের একটি লবি। যদিও এঁদের নিজেদের মধ্যেই ইস্যু ভিত্তিক মতানৈক্য দেখা যায় মাঝে মধ্যে। আরেকটি লবি সহ-সভাপতি অনু দত্ত’র। প্রাক্তন রিপ্রেজেন্টেটিভদেরই আধিক্য বেশি তাঁকে ঘিরে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোপাল-চাকী-ভর্মা।
অপর লবিটি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস সহ নানান কমিটির চেয়ারম্যানদের। এটিকে বর্তমানে ওয়ার্কিং কমিটি বললেও ভুল হবে না। এরা চেষ্টা করছে সিএবি ঠিক মতো পরিচালনা করার।
এও অভিযোগ উঠছে কিছু জন রয়েছেন যাঁরা কোনও লবিতেই নেই। যেখানে ধান্দা সেখানে এঁরা। এটা ধান্দাবাজদের লবি বললেও ভুল হবেনা। গৌতম (অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য নয়), প্রদীপ (নানান নামে পরিচিত), সঞ্জয় (একদা অভিষেক ডালমিয়া ঘনিষ্ঠ)- এই লবির মুখ। এঁরা ভিড় দেখে নিজেদের জায়গা নির্ধারণ করে। ঝাঁক যে দিকে সেই পথের পথিক এঁরা। যদিও পুরোটাই অভিযোগ। এই অভিযোগের সত্যতা sportsnscreen যাচাই করেনি।
লবি সিএবি-তে নতুন বিষয় নয়, অতীতেও ছিল, আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকার সম্ভাবনা প্রবল। যদি ঘটনা সত্যিই হয় তা হলে চোখে লাগছে দায়িত্ব নিতে না নিতেই নতুন কমিটি’তে আমরা-ওরা চলে আসায়।



