
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা, ২১ জানুয়ারি: সালটা ২০০৮। ততদিনে সাংবাদিকতার স্বপ্ন প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। সব ছেড়ে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যবসা। আর সেই ব্যবসার সুবাদেই পৌঁছে যাওয়া চিনে। প্রায় ১০টা বছর কেটেছে সেখানে। তার মধ্যেই পড়ে গেল বেজিং অলিম্পিক। ১৮ বছর আগের কথা। আজও মনে করলে ফিরে যান সেই সব দিনগুলোয়। সময়টা দীর্ঘ, তবে সেই সময়ের সব তথ্য, লেখা, খবর হাতের মুঠোয় এক মলাটে নতুন করে তুলে দিলেন প্রীতিময় চক্রবর্তী। লিখে ফেললেন আস্ত একটা বই, নাম ‘ড্রাগনের দেশে কলমযুদ্ধ’। যুদ্ধই বটে। সেদিন টের পেয়েছিলেন, মাল্টি ইভেন্ট স্পোর্টস কভার করা কতটা কঠিন। বুধবার সেই বইয়েরই বোধন হয়ে গেল ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশনাল ক্লাবে। রাত পোহালেই বইমেলার ঢাকে কাঠি পড়ে যাচ্ছে, তার আগে হাতে গরম নতুন বই তুলে দিল দীপ প্রকাশ।
এদিন প্রীতিময় চক্রবর্তীর বইয়ের উদ্বোধনের মঞ্চ আলো করে ছিলেন প্রাক্তন সোনাজয়ী হকি অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং, অলস্পোর্টস ফাইন্ডেশনের কর্ণধার শ্রেনিক শেঠ, সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য ও প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার দীপ্তাশু মণ্ডল। আর ছিলেন স্বয়ং লেখক। তিনিই শোনালেন কীভাবে এই বই তৈরি হল ১৮ বছর পর। একদিন এক ব্যক্তি তাঁর সেই অলিম্পিক কভারেজের সব আর্টিকেলের পেপার কাটিং নিয়ে হাজির হলেন তাঁর কাছে। তিনি নিজেও নিজের লেখা জমিয়ে রাখেননি। আর তা দেখেই সেগুলোকে এক মলাটে ধরে রাখার পরিকল্পনা। তাতে পাশে পেয়ে গেলেন প্রকাশনা সংস্থাকে। আর হই হই করে তৈরি হয়ে গেল আস্ত একটা বই।
বই উদ্বোধনের মঞ্চে সকলেই মন খুলে লেখক সম্পর্কে তাঁদের মতামত দিলেন। গুরবক্স সিং বলছিলেন, ‘‘এমন একটা বই লেখা হল যেখানে ইতিহাস রয়েছে অলিম্পিকের। ১৮ বছর পর আর কে মনে রেখেছে সেই সময়কে। তবে এই বই এই প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে নিশ্চিত, মানুষ পছন্দ করবে।’’ লেখক বলছিলেন, এই বই তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর নাতি, লক্ষ্য তাদের প্রজন্ম যদি এই বই পরে। এর পাশাপাশি একটি মজার গল্পও শোনালেন তিনি যা এই ভারতবর্ষে তো অসম্ভব। বলছিলেন, ‘‘চিনে অলিম্পিক কভার করার সময় একটি ভেন্যুতে লিফটের জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছি। এমন সময় সেখানে হাজির সে দেশের এক মন্ত্রী। আমরা তো তাঁর জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছি, তা দেখে তিনি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন আপনারা সরে গেলেন কেন? আমরা তাঁকে জানাই তিনি মন্ত্রী, তাঁর জন্য জায়গা ছেড়ে দিতেই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘আপনারা আমার অতিথি, আপনারা আগে যাবেন আমি পরে।’ ওরা কোথায় এগিয়ে এর থেকে প্রমাণ হয়।’’
সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘‘যারা অলিম্পিক কভার করে ফেরেন তাদের লেখাটা কাগজে থেকে যায় বা চ্যানেলে কয়েকটা বাইটে থেকে যায়। বেজিং অলিম্পিক অনেকদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এমন অনেক কিছু হয়েছিল যা অতীতে হয়নি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সেই ইভেন্টের একটা সালতামামি থাকল যা খুব কাজের। আর তার কাজটা থেকে গেল। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা রেকর্ড হিসেবে থেকে গেল।’’ শ্রেনিক শেঠ শোনালেন কীভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন লেখক। কীভাবে তাঁরা মাঠে মাঠে ঘুরে ছবি তুলতেন। সব মিলে ১৮ বছর আগের অলিম্পিকের নানা কাহিনী নিয়ে তৈরি বইয়ের মঞ্চ থেকে তাঁরা ফিরে দেখলেন তাঁদের সময়কে। ১১০ পাতার এই বই এবার খেলাপ্রেমী, বইপ্রেমীদের হাতে পৌঁছে যাওয়ার অপেক্ষায়।



