
নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী, ১৮ নভেম্বর: রেলওয়েজের পর এবার অসমের বিরুদ্ধেও ৭ পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করল বাংলা। কল্যাণীতে কাল সে জন্য বাংলাকে তুলে নিতে হবে ৭ উইকেট। অসম এখনও পিছিয়ে ১৪৪ রানে।
রঞ্জি ট্রফিতে ইতিমধ্যেই বাংলা চারটি ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে, ড্র করেছে ১টি ম্যাচ। অসমের বিরুদ্ধে ইনিংস জয় আসার সম্ভাবনা প্রবল।
প্রথম ইনিংসে অসমের ২০০ রানের জবাবে গতকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ছিল ৬৭ ওভারে ৪ উইকেটে ২৬৭ রান। আজ ১০৯.১ ওভারে ৪৪২ রানে শেষ হয় বাংলার প্রথম ইনিংস। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির কিছু পরেই। ফলে লিড দাঁড়ায় ২৪২ রানের।
শাহবাজ আহমেদ এদিন প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারের দ্বিতীয় শতরান পেলেন। পাঁচে ব্যাট করতে নেমে তিনি করেন ১২২ বলে ১০১ রান। ১১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে। সুমন্ত গুপ্ত হিট উইকেট হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয় শতরান হাতছাড়া করলেন, মাত্র ৩ রানের জন্য।
রেলওয়েজ ম্যাচে সুমন্ত খেলেছিলেন ১২০ রানের ইনিংস। আজ সুমন্ত আউট হলেন ১৩১ বলে ৯৭ রান করে। তিনি ১৪টি চার মেরেছেন। শাহবাজ ও সুমন্ত পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৬৯ বলে ১২৯ রান যোগ করেছেন। রাহুল প্রসাদ ৪৮ বলে ২৮, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ২৯ বলে ১১ রান করে আউট হন। মহম্মদ শামি দুটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ১৪ বলে ১৮ রান করেন। মহম্মদ কাইফের অবদান ১৫ বলে ৬। ১ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন ঈশান পোড়েল।
মুখতার হুসেন, আবদুল আজিজ কুরেশি, আকাশ সেনগুপ্ত ও ঋতুরাজ বিশ্বাস ২টি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট পেয়েছেন আয়ুষ্মান মালাকার।
জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় অসম। দ্বিতীয় বলেই মহম্মদ শামির শিকার হন ঋষভ দাস (২ বলে ০)। শূন্য রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর অসমের দ্বিতীয় উইকেট পড়ে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে, দলগত ৪ রানে। স্বরূপম পুরকায়স্থ (৫ বলে ৪) শামির দ্বিতীয় শিকার। এই দুটি উইকেটের ক্ষেত্রেই ক্যাচ ধরেন উইকেটকিপার শাকির হাবিব গান্ধী।
ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের বলে প্রদ্যুন সাইকিয়া (১৬ বলে ০) লেগ বিফোর হন। ফলে অসমের দুই ওপেনারই এদিন খাতা খুলতে পারেননি। ৮ রানে তিন উইকেট হারানোর পর লড়াই চালাচ্ছেন ডেনিশ দাস ও অধিনায়ক সুমিত ঘাডিগাঁওকর।
তৃতীয় দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অসমের স্কোর ৩৮ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান। সাতটি চারের সাহায্যে ডেনিশ ১০৬ বলে ৬৩ ও সুমিত ২টি চারের সাহায্যে ১০০ বলে ৩০ রানে অপরাজিত আছেন।
মহম্মদ শামি ৩টি মেডেন-সহ ১০ ওভারে ২৯ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন। ২টি মেডেন-সহ ৭ ওভারে ১৬ রান খরচ করে সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল তুলে নিয়েছেন ১টি উইকেট। ঈশান পোড়েল ৭ ওভারে ১৯, মহম্মদ কাইফ ৮ ওভারে ২০ ও শাহবাজ আহমেদ ৬ ওভারে ১৪ রান দিয়েছেন, তবে উইকেট পাননি।



