হোটেলের চড়া ভাড়া, নাভিশ্বাস ক্রিকেটপ্রেমীদের

কৌশিক চক্রবর্তী, আহমেদাবাদ, ৮ মার্চ:

দিনে দুপুরে ‘ডাকাতি’ চলছে আহমেদাবাদে। ডাকাতি ছাড়া আর কী বা বলা যায় যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের লুঠতে কোনরকম কার্পণ্য করছে না আমেদাবাদের ব্যবসায়ীরা।

ভারত-নিউজিল্যান্ডের এই ফাইনাল দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী জড়ো হয়েছেন আমেদাবাদে। বিমানের ভাড়া এক ধাক্কায় কিছুটা যেমন বেড়েছে তেমনই বেড়ে গিয়েছে হোটেল ভাড়া। অত্যন্ত সাধারণ মানের হোটেল অন্য সময় যার ভাড়া দিন প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা সেই হোটেলই বিশ্বকাপ ফাইনালের আবহে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকায়। মধ্যমানের হোটেলের দাম উঠছে ২৪ হাজার থেকে চল্লিশ হাজার টাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটছে সবটাই কিন্তু কোনও হেলদোল নেই গুজরাটের রাজধানী আমেদাবাদের পুলিশের। সাধারণ মানুষের টাকা লুঠ করার প্রচেষ্টায় যাতে কোনও ভুলত্রুটি না থেকে যায় তার জন্য প্রত্যেক দিনই নেওয়া হচ্ছে অগ্রিম টাকা। ইন্দোর থেকে খেলা দেখতে আসা সমর্থক অভিষেক শ্রীবাস্তবের সঙ্গে কথা হচ্ছিল স্টেডিয়ামের বাইরে। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই উঠে আসে হোটেল ভাড়া প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে বেশি দূরে নয় ইন্দোর। ব্যবসার কারণে মাঝেমধ্যেই আমাকে আমেদাবাদ আসতে হয়। যেই হোটেলে উঠি সেখানের ঘর ভাড়া সাধারণ সময় নয় তিন হাজার টাকা করে কিন্তু এবার যখন খেলা দেখতে এলাম তখন সেই হোটেলই আমার থেকে নিল কুড়ি হাজার টাকা করে। হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভাড়া প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এখন এই ভাড়াই যাচ্ছে।”

শ্রী বাস্তবের মত হোটেল স্ক্যামের আরেক শিকার মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী কুলদীপ ঝুনঝুনওয়ালা। তিনি জানালেন, তাঁর থেকে হোটেল ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দিন প্রতি ২৫ হাজার টাকা।

শুধু হোটেল ভাড়াই নয়, টিকিটের দামও আকাশ ছোঁয়া। বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের ন্যূনতম দাম রাখা হয়েছে ২০০০ টাকা। যে অ্যাপ এ টিকিট বিক্রি হচ্ছে তাতে সেই দামের টিকিট বাজারে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়। ৩ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। এমনকি মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী এই তিন হাজার টাকার টিকিট কেটেছেন ৩৫ হাজার টাকায়। সাড়ে তিন হাজার টাকার টিকিটের দাম পৌঁছেছে ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এক কথায় টাকা উড়ছে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের এই ম্যাচকে ঘিরে। টিকিট ব্ল্যাক বিভিন্ন শহরেই হয় তবে আমেদাবাদে দিনের আলোর পরিবর্তে টিকিট ব্ল্যাক হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে।

২০২৩ বিশ্বকাপেও একই রকম কিছু দেখা গিয়েছিল ২০২৬-এ তার বদল নেই। অথচ দেশের প্রথম সারির শহর মুম্বাই-কলকাতা-দিল্লি বা চেন্নাই থাকতেও বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে আমেদাবাদ’কে। পরিকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদীর স্টেডিয়ামের থেকে অনেক এগিয়ে থাকবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম বা ইডেন গার্ডেন্স। ২০৩০ সালে এই আমেদাবাদেই হওয়ার কথা কমনওয়েলথ গেমসের। সেই সময় এই শহরের ‘কালো বাজারি’ কী রূপ নেবে তা ভাবলে আগে থেকেই শঙ্কিত হতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here