
উন্নতি নেই। সময় বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নেমে যাচ্ছে ভারতীয় ফুটবল দলের মান। ফিফা’র বিশ্ব ক্রমতালিকায় ১৪২-এ চলে গিয়েছে ভারত। কী কারণে এত অবনতি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে গেলে একেবারে প্রথমেই উঠে আসবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে’র নাম। তাঁকেই এবার সোজাসাপ্টা দিলেন বাইচুং ভুটিয়া।
বুধবার টাটা স্টিল ম্যারাথনের একটি অনুষ্ঠানে এসে ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান র্যাঙ্কিং নিয়ে মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার। তাঁর মতে, ভারতীয় ফুটবলের এমন দুর্দশা কাটাতে উত্তর-পূর্বের কোনও ব্যক্তিকে সভাপতি করা উচিত।
প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া বলেন, “তিন বছর ধরে আমাদের ফুটবলে অনেক ক্ষতি হয়েছে। যার প্রভাব দলেও পড়েছে। খেলতে না পারলে তো র্যাঙ্কিংয়ে পতন হবেই। এমন চলতে থাকলে তো ফিফার ক্রমতালিকায় আরও পিছিয়ে পড়তে পারে দল। যদি র্যাঙ্কিং দেড়শোতে চলে যায়, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কঠিন সময় সামলে উপরে উঠতে গেলে আরও সময় লাগবে।”
এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ’কে উদ্দেশ্য করে বাইচুং বলেন, “ভবিষ্যতে ফেডারেশনে যদি নতুন বোর্ড আসে, তাঁদের সামনে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। হয়তো শূন্য থেকে আবার সবকিছু শুরু করতে হবে। শেষ তিনটে বছর জাতীয় দলের পারফরম্যান্স সমর্থকদের হতাশ করেছে। বিভিন্ন কারণে পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়েছে। তবে শীর্ষ আদালতের রায় অনেক পরে এসেছে। আমি তিন বছর ধরে সংবিধান চালুর জন্য অপেক্ষা করেছি। ফলে সংবিধান চালু নিয়ে রায়টা শীর্ষ আদালত তিন বছর আগে দিলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য হত। এর দায় বর্তমান সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে নিতে হবে।”এর সঙ্গেই তাঁর সংযুক্তি, “স্বাধীনতার পর থেকে নর্থইস্ট-এর কেউ কখনও সভাপতি হননি। ভারতীয় ফুটবলে নর্থইস্টের অনেক অবদান আছে। ফেডারেশনের পরবর্তী নির্বাচনে নর্থইস্ট থেকে কেউ সভাপতি হয়ে আসবেন। নর্থইস্ট থেকে পরবর্তী এআইএফএফ সভাপতি হওয়ার সময় এসেছে। এ ব্যাপারে মিজোরামের ফুটবল সংস্থার সভাপতি এবং অরুণাচলপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভালো বিকল্প। ফুটবল প্রশাসনে তাঁদের অবদান রয়েছেন। আশা করব নতুন প্রশাসনের অধীনে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি হবে।” উল্লেখ্য, এবার টাটা স্টিল ম্যারাথনের অন্যতম মুখ বাইচুং। এ দিন রেঞ্জার্স ক্লাব তাঁবুতে টাটা স্টিল ম্যারাথনের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ‘পাহাড়ি বিছে’। এছাড়াও ছিলেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।



