
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে ভারতীয় দলের র্যাকিং। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ‘ভিশন ২০৪৭’ আদপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা, তা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় সেই নিয়ে একটি উপায় জানিয়েছেন ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপজয়ী জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস।
রবিবার সাউথসিটির কাছে আন্তর্জাতিক স্কুলে এসেছিলেন ম্যাথিউস। বেঙ্গল সুপার লিগের অন্যতম মুখ তিনি। সেখানে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি প্রসঙ্গে জার্মান বিশ্বকাপার বলেন, “একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে উন্নতি করতে হবে। ফুটবলারদের অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ভাল কোচ এবং স্টাফদের নিয়োগ করতে হবে।”
বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পাশাপাশি বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার পেয়েছেন ম্যাথিউস। জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি’ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তাঁর ব্যক্তিগত ঝুলিতে একাধিক ব্যালন ডি’অর খেতাব রয়েছে। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই মেসির প্রসঙ্গ উঠে আসে। যা নিয়ে ম্যাথিউস বলেন, “মেসি বর্তমানে বিশ্বসেরা ফুটবলার। এখনও পর্যন্ত ও যে ভাবে খেলছে, তা এককথায় অসাধারণ। তবে সেরা খেলোয়াড়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে আমি অবশ্যই মারাদোনা’কে এগিয়ে রাখব। কারণ, ওর সঙ্গে খেলেছি এবং ও কতটা ভয়ঙ্কর সেটা আমি জানি।” বর্তমান প্রজন্মে মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো’কে দশকের সেরা দুই ফুটবলার হিসাবে মানা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুই ফুটবলারের মধ্যে কে সেরা, তা নিয়ে দ্বন্দ্বের শেষ নেই। এই বিষয়টি ম্যাথিউস জানান, অবশ্যই দু’জন বিশ্বের সেরা ফুটবলার। কিন্তু যখন কেউ বিশ্বকাপ জিতে নেয়, সেটা অন্যদের থেকে একটা বড় পার্থক্য তৈরি করে। রোনাল্ডো এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতেনি, তাই আমি মেসি’কেই এগিয়ে রাখছি।”
রবিবার একাধিক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ঘুরে গেলেন কলকাতায়। বেঙ্গল সুপার লিগের প্রোমোশনের অংশ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ‘মাস্টারক্লাস উইথ লোথার ম্যাথাউস’ ইভেন্টে। সেখানে ১০টি স্কুলের প্রায় ১৫০ জন ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেললেন ফুটবল। হাতে কলমে শেখালেন ছোট ছোট টাচ, নিজেদের মধ্যে ওয়ান-টু পাস খেলে কী ভাবে বলের দখল রেখে আক্রমণ গড়ে তুলতে হয়। সেই সঙ্গে বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ম্যাথাউস। তিনি বলেন, ‘ফুটবলের প্রতি বাংলার ভালোবাসা খুবই গভীর। তাই সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ হলে ফের ভারতীয় ফুটবলের ‘পাওয়ারহাউস’ হয়ে উঠতে পারে বাংলা। BSL-এর হাত ধরে ছন্দে ফিরতে পারে বাংলার ফুটবল।’



